
বরগুনা প্রতিনিধিঃ
গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে বরগুনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলামকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তলব করা হয়েছে। বুধবার বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদ হোসেন এ আদেশ দেন।
ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের বরাত দিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুবিন জানান, মঙ্গলবার মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম নামের একজন সেবাগ্রহীতা বরগুনা পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের স্থলে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী এমডি জহিরুল ইসলাম সংশোধন করতে যান। এ সময় পাসপোর্ট অফিস গ্রাহককে এফিডেফিট করতে বলে। কিন্তু আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে নির্দেশনাা অনুসারে তা করার প্রয়োজন নেই।
আদালতের ভাষ্য, নথি পর্যালোচনায় মো. জহিরুল ইসলামের পাসপোর্ট নবায়নের দরখাস্তে সহকারী পরিচালক কোর্ট এফিডেবিট দিতে হবে মন্তব্য করলেও সার্কুলার অনুযায়ী এফিডেবিটের প্রয়োজন নাই। মো. জহিরুল ইসলাম আদালতে এফিডেফিট করতে গেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হোসেনের বিষয়টি নজরে আসে।
আদেশে ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ২৯ নভেম্বর ২০২১ ‘তারিখে জারি করা পরিপত্রের ‘খ’ দফা অনুসারে, নামের বানান সংশোধন ছাড়াও কারও পাসপোর্টে যদি মোহাম্মদ থাকে তাহলে তিনি যদি সনদের মতো করে পাসপোর্টে এমডি করতে চান; সে ক্ষেত্রে এফিডেফিট করার প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি করা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্কুলারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে সেবা গ্রহীতার আর্থিক অপচয় এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
এই বিষয়ে কেন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করা হবে না সে বিষয়ে বরগুনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলামকে আগামী ১০ মে তারিখে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।